মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের রাস্তায় যাঁরা নেমেছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। তাঁরা সেই মানুষ, যাঁদের সেলাই-মেশিনের শব্দে দেশের রপ্তানি আয় চলে, জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ আসে। অথচ ১২,৫০০ টাকার মজুরিতে ঢাকা শহরে ঘরভাড়া, বাজার আর সন্তানের পড়াশোনা সামলানো যায় না বলেই তাঁরা ৩০,০০০ টাকা চাইছেন। সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু আস্থার অভাবে শ্রমিকরা তাতে সন্তুষ্ট হননি। এটাই আজকের আসল সংকট।
বলে রাখা ভালো, পুলিশ বক্স আর গাড়িতে আগুন দেওয়াকে সমর্থন করা যায় না। ক্ষোভ যতই ন্যায্য হোক, সহিংসতা আইনের চোখে অপরাধ এবং শ্রমিকদের নিজেদের দাবিকেই দুর্বল করে। তবে সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ মানুষের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। সেই অঙ্গীকার ততটুকুই অর্থবহ, যতটুকু রাষ্ট্র বাস্তবে মানে। তাই আন্দোলনের আড়ালে কেউ নাশকতা করে থাকলে তার নিরপেক্ষ বিচার হোক। কিন্তু সেই অজুহাতে পুরো আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র বলে দেওয়া, কিংবা সাধারণ শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো, ভুল পথ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান আমাদের শেখায়, সরকারের শক্তি লাঠিতে নয়, বৈধতায়। বৈধতা যত কমে, ক্ষমতা ধরে রাখতে তত বেশি বল লাগে। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতন তার প্রমাণ। হবস বলেছিলেন, “নিরাপত্তা না থাকলে বৈধতাও থাকে না।” কিন্তু সেই নিরাপত্তা মানে শুধু রাস্তায় শৃঙ্খলা নয়। ন্যায্য আইন, নিশ্চিত জীবিকা আর মর্যাদার নিরাপত্তাও তার অংশ। ক্ষুধার্ত পেটে শৃঙ্খলা টেকে না।
তাই সরকারের প্রথম কাজ, মজুরি বোর্ডকে কাগুজে ঘোষণা থেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় পরিণত করা। সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি রাখতে হবে, আর ঢাকা-গাজীপুরে একটি পরিবারের প্রকৃত খরচের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী ভাতা দেওয়া যায়। মালিক, শ্রমিক ও সরকার এক টেবিলে বসুক, আর ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোকেও ন্যায্য দাম দিতে চাপ দেওয়া হোক। নইলে সব বোঝা শেষ পর্যন্ত চাপে সবচেয়ে নিচের মানুষটির কাঁধে।
শেষ কথা, ল্যাসওয়েলের ভাষায় রাজনীতি মানে “কে কী পায়, কখন এবং কীভাবে”। যাঁদের ঘামে অর্থনীতি চলে, তাঁরা কেন সবচেয়ে কম পাবেন, আজকের আন্দোলনের প্রশ্ন এটাই। এর উত্তর লাঠি দিয়ে হয় না, দিতে হয় ন্যায্য মজুরি, আইনের শাসন আর সম্মানজনক আলোচনা দিয়ে।
Trending
- এনসিপির নতুন উইংয়ের আত্মপ্রকাশ আজ
- কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কবে, জেনে নিন সময়সূচি
- গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
- ন্যায্য মজুরি শ্রমিকের অধিকার, দয়া নয়। যাঁদের ঘামে দেশের অর্থনীতি সচল, তাঁদের জীবনমান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দাবি হোক ন্যায্য, সমাধান হোক আলোচনায়—সহিংসতায় নয়।
- এইচএসসির ফল প্রকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন আনল বোর্ড
- গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার
- বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত হয়েছে দুটি ভিন্নমাত্রার জাদুঘর
Tuesday, November 3

