একটি দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন; সাধারণত এমন ধারণাই পোষণ করেন বেশিরভাগ পর্যটক। তবে এই প্রথাগত হিসাবকে ভুল প্রমাণ করে নতুন এক রূপকথা তৈরি করেছেন তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালোনি গার্গ। আধুনিক ভ্রমণের চড়া খরচের বাজারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি মাত্র ৩.৫ লাখ ভারতীয় রুপির টানা পাঁচ মাস ধরে সমগ্র ইউরোপ পরিভ্রমণ করেছেন। কোনো ধরনের শারীরিক ক্লান্তি বা পুষ্টির অভাব ছাড়াই অত্যন্ত সুষম খাদ্য গ্রহণ করে তিনি কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন, সেই জাদুকরী অভিজ্ঞতার কথাই এখন অন্তর্জালে বেশ আলোচনায়।
দীর্ঘ এই ইউরোপ সফরের সময় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়াই সালোনি গার্গের বাজেট নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ আকাশচুম্বী হলেও সালোনি অত্যন্ত বুদ্ধিভিত্তিক কিছু কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি মূলত দুটি বিশেষ খাদ্যাভ্যাস এবং কৃচ্ছ্রসাধনের উপায় উদ্ভাবন করেন যা তাকে কয়েক হাজার ইউরো বাঁচাতে সহায়তা করে।
বাজেট নিয়ন্ত্রণের প্রথম এবং অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন ‘টু গুড টু গো’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ। ইউরোপে অপচয় রোধে বহুল ব্যবহৃত এই অ্যাপটির সাহায্যে শহরের নামীদামী রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, বেকারির পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রোসারি শপ থেকে দিনের শেষে অবিক্রীত কিন্তু সম্পূর্ণ তাজা খাবার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ মূল্যে কিনে নেওয়া যায়। কোনো গ্রাহক নিজের অবস্থান অনুযায়ী অ্যাপের মাধ্যমে খাবার নির্বাচন করে নির্ধারিত সময়ে দোকানে হাজির হয়ে মাত্র কয়েক ইউরোতে সারাদিনের আহার সংগ্রহ করতে পারেন। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের প্রধান ১৭টি দেশে এই অ্যাপভিত্তিক খাদ্য কেনার সুবিধা পর্যটকদের জন্য খরচ বাঁচানোর এক অনন্য উপায়।
খাদ্য কেনার দ্বিতীয় বড় টেকনিক হিসেবে সালোনি বেছে নিয়েছিলেন ইউরোপের সুপরিচিত ও সুলভ মূল্যের সুপারমার্কেট চেইন ‘লিডল’-কে। ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি ব্যবস্থা না থাকায় এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পণ্যের মূল্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়। সে ক্ষেত্রে লিডল হলো সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প। তিনি জানান, সেখান থেকে রান্না করার উপকরণ ছাড়াও রেডি-টু-ইট অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য যেমন; হাই-প্রোটিন দই, শেক, পাউরুটি, পেস্ট কিংবা তাজা ফলের জুস মাত্র শূন্য দশমিক সাত থেকে এক ইউরোর মধ্যে পাওয়া যায়। কোনো কারণে আশেপাশে লিডলের আউটলেট না থাকলে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সাশ্রয়ী সুপারমার্কেট চেইন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি; যেমন অস্ট্রিয়ার জন্য ‘হোফার’ ও ‘পেনি’, বেলজিয়ামের ‘কোলরুয়েট’, ফ্রান্সের ‘ই.লেক্লার্ক’, ইতালির ‘ইউরোস্পিন’ কিংবা যুক্তরাজ্যের ‘আলডি’ ও ‘অ্যাসডা’।
তবে শুধুই টাকা বাঁচানোর তাগিদে সব খাবার নিজে রান্না করার পক্ষে নন এই ভ্রমণপ্রেমী। স্থানীয় ঐতিহ্যগত খাবার উপভোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। সালোনি গার্গের মতে, ইতালির মতো দেশে বাইরে খাওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলনামূলক সাশ্রয়ী, যেখানে পাঁচ-ছয় ইউরোতে টাটকা পিজ্জা বা দুই-তিন ইউরোতে ঐতিহ্যবাহী জেলাতো আইসক্রিম অনায়াসে পাওয়া যায়।

