মেক্সিকোর টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ থেকে হলিউডের অন্যতম পরিচিত লাতিন তারকা সালমা হায়েক। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘উইদাউট ব্লাড’। প্রতিশোধ না ক্ষমা- এমন মানবিক দ্বন্দ্ব, ক্ষত ও মুক্তির গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নির্মাতা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিনা, ছোটবেলার এক রক্তাক্ত অধ্যায় যার জীবনে রেখে গেছে গভীর ক্ষত। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালমা হায়েক। তিনি সাধারণত বাণিজ্যিক সিনেমায় প্রাণবন্ত। কিন্তু এই সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্র নিনা বাণিজ্যিক সিনেমার পুরো বিপরীত। এর পরও সমালোচকরা তার অভিনয়ের দারুণ প্রশংসা করেছেন। অথচ সিনেমাটির শুরুতে তিনি এ চরিত্রে অভিনয় করতেই চাননি। সালমা বলেন, ‘আমি নিনা হতে চাইনি। আমি সেই আবেগের জায়গাগুলোয় যেতে চাইনি, যেখানে সে গিয়েছিল। এটা খুব কষ্টের। সিনেমায় অভিনয়ের পর আমার জীবনকে আবার আনন্দের জায়গায় নিয়ে আসতে অনেকটা সময় লেগেছে।’ পরিচালক হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে এটি সালমার প্রথম কাজ। এর আগে মার্ভেল সিনেমা ইউনিভার্সের ‘ইটারনালস’ সিনেমায় দেখা গেছে দুজনকে। সেখানে তারা ছিলেন সহশিল্পী। ছবিতে হায়েকের চরিত্র নিনাকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে জোলির নির্দেশনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ও আবেগঘন দৃশ্যগুলো করতে গিয়ে যখন চরিত্রের মানসিক ভার সালমাকে চাপে ফেলেছে, তখন জোলির কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের কথাও বলেছেন তিনি। ফলে ‘উইদাউট ব্লাড’ তাদের আগের সহশিল্পী সম্পর্ককে যেন নতুন এক মাত্রা দিয়েছে। ‘ইটারনালস’-এ তারা ছিলেন একই গল্পের দুই অভিনেত্রী আর ‘উইদাউট ব্লাড’-এ তারা হয়ে উঠেছেন একজন নির্মাতা ও তার অভিনেত্রীর সৃজনশীল সঙ্গী। সালমা হায়েকের আজকের অবস্থানে আসার পথটি সহজ ছিল না। অভিনয়ের শুরু, ভাষা ও পরিচয়ের বাধা, বয়স, উচ্চতা নিয়ে হতাশা, হলিউডের ক্ষমতাবানদের চাপ- সবকিছু পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রযোজক-পরিচালক পরিচয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। ছোটবেলায় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল না। মেক্সিকোতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। একসময় তার পরিকল্পনা ছিল কূটনীতিক হওয়ার। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে বাবাকে জানান, অভিনয় করবেন। বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাক। শেষ পর্যন্ত হায়েক অভিনয়ের ক্লাস শুরু করেন এবং একাডেমিক পড়াশোনায় আর মনোযোগী হননি। টেলিভিশনে অভিনয় দিয়ে পথচলা শুরু হয়। মেক্সিকোর ‘টেলিনোভেলা’ সিরিজের তেরেসা চরিত্র তাকে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া সিরিজটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হন। ১৯৯১ সালে সালমা লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান। ১৯৯৫ সালে ‘ডেসপেরাডো’ সিনেমায় অ্যান্টোনিও বান্দেরাসের বিপরীতে অভিনয় করে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপর ‘ফ্রম ডাস্ক টিল ডন’, ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’, ‘ডগমা’ সিনেমাগুলো তাকে আলোচিত করে। এর কারণ নিয়ে এন্টারটেইনমেন্ট উইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার চেহারাই তাকে হলিউডে সুযোগ পাওয়ার দরজা খুলে দিয়েছিল। শুরুতে তার সৌন্দর্য ও শারীরিক আবেদন নিয়েই বেশি আলোচনা হতো। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন, মানুষ যেন তার অভিনয় ও মেধাকেও গুরুত্ব দেয়। আর এখন মানুষ তাকে অভিনেত্রী হিসেবেই চেনে।
Trending
- আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে প্রশংসিত মাদরাসা আবু হুরায়রার সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতি
- ‘শাকচুন্নি’র স্বত্ব কিনলেন সৃজিত সুখার্জি
- নতুন দৃশ্যসহ আবার মুক্তি পাচ্ছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’
- হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি সংগীতশিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা বহাল
- ‘পোক’ দিবস, ভুল জানলেও সঠিক ইতিহাসটি জেনে নিন
- নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি
- বহির্মুখী রেমিট্যান্সে সমন্বিত সার্কুলার জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের
- আধাঘণ্টার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বিএফআইইউ
Saturday, October 3

