ভাদ্র মাস চলছে। এখন তাল পাকার সময়। এই সময় গ্রামে তালের বড়া, তালক্ষীর, তালের লুচি, তালের মালপোয়াসহ নানা পদে পিঠা বানানো হয়। কিন্তু এই পদগুলো কি খেতে পারবেন ব্লাড সুগারের রোগীরা? দূর করুন সেই সংশয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, তালশাঁস ও পাকা তালের একাধিক গুণ রয়েছে। এছাড়াও অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ পাকা তাল ক্যানসার প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে শরীরে। স্বাস্থ্য সার্বিকভাবে ভালো রাখে তাল। ক্ষুরধার শানিত করে স্মৃতিশক্তি। ভিটামিন বি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে পাকা তালে।
যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে পাকা তালে। ফলে দাঁত ও হাড় মজবুত হয়ে ওঠে। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের নানা সমস্যা দূর করে পাকা তালের রস। পরিপাক ক্রিয়া মসৃণ করে। কিন্তু তালের বড়া কি ডায়াবেটিসে খাওয়া যায়? ব্লাড সুগার কি চড়চড়িয়ে বেড়ে যাবে তালের বড়া বা অন্য কোনও পদ খেলে? জেনে নিন বিস্তারিত।

পাকা তালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং গ্লাইসেমিক লোড দুই-ই বেশ বেশি। গরমে কচি তালশাঁস ব্লাড সুগারে খেতে সমস্যা না হলেও পাকা তালের রস ডায়াবেটিস রোগে সমস্যা বাড়াতে পারে। গরমে আম যেমন নিয়ন্ত্রিত হারে খান, শ্রাবণ ভাদ্রে ব্লাড সুগার রোগীরা তালও খান বুঝে শুনে। ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অবশ্য নিন। চেষ্টা করুন তালের বড়া বা অন্য পদকে ব্লাড সুগার ফ্রেন্ডলি করে বানাতে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি পাকা তাল খেতে পারবেন?
মিষ্টির জন্য তালের রসে চিনির বিকল্প দিন। ময়দার বদলে দিন হোল গ্রেইন আটা। তবে সুজি দিতেই পারেন। ডুবো সাদা তেলে ভাজলে বাড়ে তালের বড়ার স্বাদ। তবুও চেষ্টা করুন তেল জবজবে করে তালের বড়া না ভাজতে। একসঙ্গে বেশি তালের বড়া খাবেন না। নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে তালের বড়া খান ব্লাড সুগার রোগীরা। এতে স্বাদ ও স্বাস্থ্য-দুই-ই বজায় থাকবে।
