ফের বড় দরপতনে সপ্তাহ শুরু হলো শেয়ারবাজারে। গতকাল রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৫২ কোম্পানির মধ্যে ৩২৩টি দর হারিয়েছে, যা মোটের ৯২ শতাংশ। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট বা পৌনে ২ শতাংশ হারিয়ে ৫৫১৮ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকের এ অবস্থান গত ২ জুনের পর সর্বনিম্ন।
গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেও সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছিল। সূচক হারিয়েছিল ১০৩ পয়েন্ট। গত ১২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দরপতনে তালিকাভুক্ত ৩৩১টির দর হারিয়েছে। কমপক্ষে ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ দর হারিয়েছে ২৪১ কোম্পানির শেয়ার। তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই চিত্র।গত ২২ কর্মদিবসে মাত্র ছয় দিনে সূচক বেড়েছে ১০৫ পয়েন্ট। বিপরীতে বাকি ১৬ দিনে সূচক হারিয়েছে ৫৮৫ পয়েন্ট।
এমন লাগাতার দরপতনের বিষয়ে জানতে চাইলে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম সমকালকে বলেন, চলতি দরপতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা নেই। কেউবা কোনো গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত দরপতনকে উস্কে দিচ্ছে কিনা, তা সার্ভিল্যান্স বিভাগের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সার্ভিল্যান্স বিভাগ জানিয়েছে, তারা এমন আলামত পায়নি।ব্রোকারেজ হাউস সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভিল্যান্স বিভাগ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের তথ্য নিয়েছে। যাদের তথ্য নেওয়া হয়েছে তারা শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগকারী। অবশ্য এদের অনেকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ আছে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস ও সেগুলোর সিইওদের দায়িত্ব হিসেবে সচেতন করেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যানের একটি সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, কারসাজির বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, ফৌজদারি মামলা করা হবে। এসব বিষয় বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তাদের ধারণা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি এবং একই সঙ্গে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ অর্থনীতি ও বাণিজ্যের কিছু খবর বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন। ব্রোকারেজ হাউস সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভিল্যান্স বিভাগ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের তথ্য নিয়েছে। যাদের তথ্য নেওয়া হয়েছে তারা শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগকারী। অবশ্য এদের অনেকের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ আছে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস ও সেগুলোর সিইওদের দায়িত্ব হিসেবে সচেতন করেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যানের একটি সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, কারসাজির বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, ফৌজদারি মামলা করা হবে। এসব বিষয় বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তাদের ধারণা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি এবং একই সঙ্গে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ অর্থনীতি ও বাণিজ্যের কিছু খবর বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সংগঠন ডিবিএর পক্ষ থেকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে গত মঙ্গলবার অনলাইনে এক জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে হবে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বাজারকে দমন নয়; বরং একটি কমপ্লায়েন্ট, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য।ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী সমকালকে বলেন, কারসাজিমূলক লেনদেন হলে ডিএসই বা এসইসির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হবে, তদন্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ১৫ টাকার শেয়ার ৫০ টাকায় পৌঁছানোর পরই কেন তদন্ত হয়। কেন আরও আগে নয়– এমন প্রশ্ন সবার। অবশ্য তিনি মনে করেন, দরপতনের আরও কারণ থাকতে পারে। তাঁর মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি ব্যাংক এবং তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যে লুটপাট হয়েছে, তার সঙ্গে এ বিনিয়োগকারীরা জড়িত ছিলেন না।
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য সব সংস্থার সামনে দিয়ে এ লুট হয়েছে। লুট করে পালানোর পর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। আমানতকারীদের ধার কর্জ করে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় কেন মানুষ শেয়ারে লগ্নি করবে– এমন প্রশ্ন তাঁর।

