সকালে মেয়েকে সাজাতে বসেছেন মায়া। চুলে চিরুনি, মুখে ময়েশ্চারাইজার, ঠোঁটে লিপবাম-মায়ের কাছে সবই আদরের অংশ। চার বছরের মেয়ে মুগ্ধ হয়ে মায়ের হাতের ছোট ছোট কৌটাগুলো দেখছিল।
মা, এগুলো কী? এসব প্রসাধনী। তোকে সুন্দর করে সাজাচ্ছি।
সাজ শেষ করে মা প্রসাধনীর বাক্সটি টেবিলেই রেখে রান্নাঘরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর মায়া ফিরে এসে একটি বোতল হাতে তুলে নিল। কৌতূহলবশত সেটি খোলার চেষ্টা করতেই মা ছুটে এসে বললেন, ওটা ধরিস না! মুখে দিবি না!
মায়া অবাক হয়ে বলল, কেন মা? তুমিই তো আমার মুখে লাগালে!
মা থমকে গেলেন। সত্যিই তো, শিশুর চোখে ক্রিম, লোশন, লিপবাম কিংবা ওষুধের বোতল-সবই ছোট্ট আকর্ষণীয় পাত্র। কোনটা শরীরে লাগাতে হয়, কোনটা মুখে দেওয়া যাবে না কিংবা কোনটা খাওয়া বিপজ্জনক-এসব বোঝার বয়স তার হয়নি।
বাবা ঘরে এসে বললেন, বাচ্চার কৌতূহলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওষুধ আর প্রসাধনী এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে ওর হাতই পৌঁছাবে না।
মা এবার ঘরের দিকে তাকালেন। টেবিলে প্রসাধনী, ড্রয়ারে ওষুধ, বিছানার পাশে ভিটামিনের বোতল। এতদিন যেগুলোকে তিনি সাধারণ গৃহস্থালির জিনিস ভেবেছেন, হঠাৎ সেগুলোই যেন সম্ভাব্য বিপদ মনে হলো।
আমি তো কখনো এভাবে ভাবিনি…
বাবা বললেন, এক মিনিটের অসাবধানতাই কখনো কখনো অনেক বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। মা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।পরদিন থেকেই মায়া ঘরের নিয়ম বদলে ফেললেন। সব ওষুধ চলে গেল নিরাপদ ক্যাবিনেটে। প্রসাধনীগুলোও ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে তুলে রাখা হলো।
মেয়ে আবার সাজতে বসে বলল, মা, আজও আমাকে সুন্দর করে সাজাবে? মা হেসে বললেন, অবশ্যই। তবে সাজানো শেষে সবকিছু জায়গামতো চলে যাবে।
বাবা মজা করে বললেন, সৌন্দর্যের সঙ্গে নিরাপত্তার সাজটাও জরুরি!
মা এবার বুঝেছেন, শিশুর সামনে শুধু ওষুধ নয়-মেকআপ, পারফিউম, ক্রিম, লোশন, ভিটামিনসহ ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা সামগ্রীও ফেলে রাখা ঠিক নয়। রঙিন প্যাকেট, সুগন্ধি কিংবা ছোট বোতল শিশুর কাছে মুহূর্তেই খেলনার মতো আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
মা মেয়েকে বললেন, তুই কোনো বোতল চিনতে না পারলে নিজে খুলবি না। আমাকে ডাকবি। মেয়ে মাথা নাড়ল।
মা তার কপালে চুমু দিয়ে বললেন, তোমাকে সাজিয়ে সুন্দর দেখানো আমার আনন্দ। কিন্তু তোমাকে নিরাপদ রাখা আমার দায়িত্ব।
শিশুর জন্য ভালোবাসা শুধু সুন্দর পোশাক, চুলের ফিতা কিংবা প্রসাধনীতে নয়। কখনো সবচেয়ে বড় আদর হলো-বিপজ্জনক জিনিসটি তার চোখের আড়ালে, হাতের নাগালের বাইরে সরিয়ে রাখা।
কারণ দুর্ঘটনা ঘটতে অনেক সময় কয়েক মিনিটও লাগে না। তাই আজই একবার ঘরের চারপাশে তাকান-আপনার শিশুর নাগালের মধ্যে এমন কোনো ওষুধ বা প্রসাধনী পড়ে আছে কি না, যা তার হাতে থাকা উচিত নয়।

