আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যে তেহরানের রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করল ইরান। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকার-আয়োজিত এক বিশাল সামরিক সমাবেশে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক অংশ নেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় গণজমায়েত।
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার এবং যেকোনো সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘জানফাদায়ে ইরান’ (ইরানের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী) শীর্ষক এই অভিযানের আওতায় তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে সামরিক পোশাকে জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী মার্চ করেন।
ইরানি বার্তা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির অধীনে জনগণকে আসাল্ট রাইফেল ব্যবহারের মতো সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা শক্তিশালী ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং এর অঙ্গসংগঠন ‘বাসিজ’-এর পাশাপাশি নিরাপত্তার নতুন একটি স্তর হিসেবে কাজ করবে।
তেহরান আইআরজিসির প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদে জানিয়েছেন, সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষাধিক মানুষ নিবন্ধন করেছেন এবং এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমাবেশ শুরুতেই বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তায়েব বলেন, “এই নতুন স্বেচ্ছাসেবীরা শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ হবে।” এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা মার্চপাস্ট পরিদর্শন করেন।
উপস্থিত জনতা মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকা পদদলিত করে এবং “আমেরিকা নিপাত যাক”, “ইসরায়েল নিপাত যাক” বলে স্লোগান দেয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া ২৪ বছর বয়সী মারজিয়াহ আফাগি বলেন, “আমাদের মাতৃভূমির প্রতি ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানিদের কোনো ভয় নেই। ইতিহাসে কেউই ইরান আক্রমণ করে টিকে থাকতে পারেনি।”
সামরিক শক্তির অংশ হিসেবে সমাবেশে বিমান বিধ্বংসী কামান, ট্রাক-মাউন্টেড মেশিনগান এবং ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ ও বাণিজ্য জাহাজে হামলায় এসব সামরিক ড্রোন নিয়মিত ব্যবহার করছে ইরান।
মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হলেও, দেশটির সরকার এই সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

