হরমুজ প্রণালিতে রোববার একটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে সাগরে জাহাজ চলাচল অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খবর পেয়েছে। সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ রাখার পর এ খবরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রতি ইরান সম্পর্কিত হুমকি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় এক জাহাজে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পেয়েছে তারা। রোববার ভোররাতে এ হামলার ঘটনা ঘটলেও এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আর এর নাবিকদের কী অবস্থা হয়েছে তা জানা যায়নি।
শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে রেখেছে। ওই ড্রোন হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছে বলে বাগদাদ ও রিয়াদ উভয়েই জানিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ইতোমধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে হামলা-পাল্ট হামলা চলতে থাকায় এ দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এ সময়জুড়ে বিশ্বে পশ্চিম এশিয়ার তেল সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে কাজ করেছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন। এটি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল আরব উপদ্বীপের পূর্ব পাশ থেকে ১২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পশ্চিম পাশের লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরে নিয়ে গেছে। তেলের এই পরিমাণটি বৈশ্বিক সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
এই পাইপলাইনের কারণে সৌদি আরব উপসাগরীয় অন্যান্য তেল, গ্যাস রপ্তানিকারী দেশগুলোকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া ব্যাপক বিঘ্ন থেকে রেহাই পেয়েছে। কিন্তু এখন দক্ষিণ দিক থেকে ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলা আর উত্তর থেকে ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার মুখে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরব।
তাৎক্ষণিকভাবে পাইপলাইনে আঘাত হানার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় কিছু আহতের ঘটনা ঘটেছে আর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে এতে তেল রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি তারা।
আয়ারল্যান্ড সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলার জন্য সম্ভবত ইরানকে দায়ী করা যায়।
শনিবার সৌদি আরবের দমকল বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, জাজান অঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন আহত ও একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, এদিন ভোররাতে তাদের দক্ষিণ উপকূলে ইরানি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, এতে একজন নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছে। কিন্তু আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।
ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল পুরোপুরি হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানিও ব্যাপক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

