স্মার্টফোন বাজারে সাড়া ফেলতে দুর্দান্ত এক নতুন ডিভাইস লঞ্চ করেছে টেক জায়ান্ট মটোরোলা (Motorola)। সংস্থার নতুন শক্তিশালী এই স্মার্টফোনটির নাম Moto G Max 5G। প্রিমিয়াম ফিচারে ভরপুর এই ফোনটি দুর্দান্ত ফটোগ্রাফি এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ফোনটির সমস্ত খুঁটিনাটি।
ব্রাজিল বাজারে আত্মপ্রকাশ ও সম্ভাব্য মডেল
আপাতত স্মার্টফোনটি ব্রাজিলের বাজারে লঞ্চ করেছে মটোরোলা। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব শিগগিরই অন্যান্য দেশের বাজারে এটি Moto G87 নামে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এর প্রিমিয়াম ফিচারগুলো সরাসরি বাজার কাঁপানো অন্যান্য প্রিমিয়াম ফোনগুলোর সঙ্গে কড়া প্রতিযোগিতা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দাম ও রঙ
Moto G Max 5G ফোনটির ৮ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টটির দাম রাখা হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার রুপি। রঙ ও লুকের দিক থেকে ফোনটি আকর্ষণীয় ব্লু এবং গ্রাফাইট—এই দুই ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ করা হয়েছে।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা
ক্যামেরার পাশাপাশি ডিভাইসটির ডিসপ্লেতেও রয়েছে বড় চমক। ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির 1.5কে সুপ্রিম অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লে, যা ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। এই স্ক্রিনের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ৫০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস, যার ফলে তীব্র রোদের মধ্যেও স্ক্রিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এছাড়া ডিসপ্লের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কার্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই প্রটেকশন।

শক্তপোক্ত ডিজাইন ও স্থায়িত্ব
Moto G Max 5G-র অন্যতম বড় ইউএসপি হলো এর অত্যন্ত মজবুত বডি। ডিভাইসটি IP66, IP68 এবং IP69 রেটিংপ্রাপ্ত; ফলে ধুলা এবং পানির তীব্র ছিটেফোঁটাতেও ফোনের কোনো ক্ষতি হবে না। এর পাশাপাশি এটি MIL-STD-810H মিলিটারি-গ্রেড সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা যেকোনো প্রতিকূল ও কঠিন পরিবেশেও ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।
পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার
শক্তিশালী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ফোনটিতে রাখা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৪০০ (MediaTek Dimensity 6400) প্রসেসর। এর সাহায্যে ভারী গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিং করা যাবে অনায়াসেই। ফোনটিতে ৮ জিবি ফিজিক্যাল র্যাম থাকলেও ভার্চুয়াল র্যাম ফিচারের মাধ্যমে তা ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। সফটওয়্যারের দিক থেকে ডিভাইসটি অ্যানড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক হ্যালো ইউআই (Hello UI)-তে চালিত হয়, যা ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ মসৃণ ও ক্লিন অভিজ্ঞতা দেবে।
ক্যামেরা ও ব্যাটারি ব্যাকআপ
ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ফোনটির প্রধান আকর্ষণ এর ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা। সংস্থার দাবি, সফটওয়্যার এনহ্যান্সমেন্টের সাহায্যে এটি ২২০ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত সুপার-ডিটেল ছবি তুলতে সক্ষম। অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS সাপোর্ট থাকায় স্থির ও নিখুঁত ছবি তোলা যাবে। মূল ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর। অন্যদিকে, সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে রয়েছে একটি ৩২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যার মাধ্যমে সহজেই 2কে রেজুলেশনেও ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব।
সারাদিন ব্যবহারের জন্য ফোনটিতে রয়েছে ৫২০০ এমএএইচ-এর শক্তিশালী ব্যাটারি, যা ৩৩ ওয়াট টার্বোপাওয়ার ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ফোনটি টানা ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
